BSSAJ Logo
BSSAJ
প্রকাশিত
অনুমোদিত

JLPT মিস হয়ে গেছে? দরজা কিন্তু একটাও বন্ধ হয়নি

MN
MD NAZIM UDDIN
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬হালনাগাদ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রেজিস্ট্রেশনের দিন সকালটা অনেকের কেমন গেছে, আন্দাজ করতে পারি। ল্যাপটপ খুলে বসে থাকা, পেজ ঘুরছে, রিফ্রেশ, আবার ঘুরছে — তারপর হঠাৎ দেখলেন সিট শেষ। এরপর যে মেসেজগুলো আসতে থাকে, সেগুলোর সুর প্রায় একরকম। বছরটা গেল। এখন কী করব।

লেখাটা লিখছি একটা কারণে। প্রশ্নটার উত্তর আসলে খুব সহজ, কিন্তু ভুল ধারণাটা এত গভীরে বসে গেছে যে সহজ উত্তরটা কেউ বিশ্বাস করতে চান না।

আগে একটা কথা পরিষ্কার করি

জাপানে পড়তে যাওয়ার জন্য ভাষার যোগ্যতা প্রমাণের একমাত্র পরীক্ষা JLPT না। জাপান সরকার এর বাইরেও আরও কয়েকটা পরীক্ষাকে স্বীকৃতি দেয় — JPT, NAT-TEST, J.TEST, TOPJ, JLCT, আরও কিছু আছে। এটা কারও ব্যক্তিগত মতামত না। তালিকাটা জাপান সরকারের ওয়েবসাইটে খোলা পড়ে আছে, যে কেউ গিয়ে দেখতে পারেন।

তাহলে বাংলাদেশে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী শুধু JLPT-র নামই জানেন কেন? আমার মনে হয় দুটো জিনিস কাজ করে। JLPT সবচেয়ে পুরোনো, সবাই ওটার নামই শুনে বড় হয়েছে। আর মাঝখানে যাঁরা দাঁড়িয়ে থাকেন, তাঁদের অনেকের নিজেরই বিকল্পগুলো নিয়ে ধারণা কম। কারও কারও ক্ষেত্রে আবার চুপ থাকাটাই সুবিধাজনক।

নিয়ম কড়া হয়েছে, কিন্তু ভয়ের কিছু নেই

জাপানের ইমিগ্রেশন সম্প্রতি 留学 ভিসার যাচাই আরও শক্ত করেছে। আগে ১৫০ ঘণ্টা জাপানি পড়ার একটা রেকর্ড দেখালেই চলত। এখন হয় পরীক্ষার সার্টিফিকেট, নয়তো ইন্টারভিউ — একটা লাগবেই। COE আবেদনের ক্ষেত্রে এটা ২০২৬ সালের অক্টোবর ইনটেক থেকে ধরা হবে।

খবরটা প্রথমে খারাপ শোনায়। আমার কাছে কিন্তু উল্টোটা মনে হয়। এতদিন যে ছেলেটা সত্যি সত্যি ছয় মাস ধরে পড়েছে, আর যার নামে কেবল কাগজে ঘণ্টা লেখা ছিল — দুজনের ফাইল দেখতে প্রায় একই রকম ছিল। এখন আর থাকবে না। যিনি সত্যিই শিখছেন, নতুন নিয়ম তাঁর পক্ষেই গেছে।

সবচেয়ে বড় বদলটা হয়েছে সময় নিয়ে

গত এক বছরে বাংলাদেশের ছবিটা বেশ পাল্টেছে, অনেকে খেয়ালই করেননি।

JPT এখন বছরে বারো বার হচ্ছে, মানে প্রতি মাসেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেসে কেন্দ্র আছে। NAT-TEST ঢাকার প্রথম কেন্দ্রে কম্পিউটারে চালু হয়েছে — কম্পিউটার খালি থাকলে প্রায় যেকোনো দিন বসা যায়, আর প্রশ্ন-পাসের মানদণ্ড-সার্টিফিকেট সবই কাগজের পরীক্ষার মতোই। JFT-Basic-এ তো পরীক্ষা শেষ করে ওঠার আগেই ফল জেনে যাবেন।

ছয় মাস পরপর একটা নির্দিষ্ট রোববারের জন্য অপেক্ষা করার দিন শেষ। আপনি যেদিন তৈরি, মোটামুটি সেদিনই বসতে পারেন।

তবে একটা জায়গায় অনেকে ঠকছেন

JPT-তে N5, N4-এর মতো লেভেল নেই। নম্বর দেয়। ভাষা স্কুলে ভর্তির জন্য যে A1 সমমান লাগে, তার জন্য দরকার ৩১৫ নম্বর। আর 告示基準-এর A2 সমমানে ৩৭০। এই কথাটা না জেনে পরীক্ষা দিয়ে ফেললে সার্টিফিকেট হাতে আসবে ঠিকই, কিন্তু ফাইলে কাজে লাগবে না। টাকাটাও যাবে, সময়টাও।

আর একটা কথা, এটাই সবচেয়ে জরুরি। কোন স্কুল কোন সার্টিফিকেট নেবে, তা স্কুলভেদে আলাদা হতে পারে। কেউ ফোনে হ্যাঁ হ্যাঁ চলবে বললে তার কোনো দাম নেই। টাকা জমা দেওয়ার আগে স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে রাখুন। এক লাইনের ইমেইল হলেও চলবে, কিন্তু লিখিত।

রেজিস্ট্রেশনও করবেন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে। কারও ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে টাকা পাঠানোর আগে অন্তত দুবার ভাবুন।

শেষে যেটা বলার

রেজিস্ট্রেশন মিস হওয়া আর অযোগ্য হয়ে যাওয়া — এক জিনিস না। সিট কম ছিল, সার্ভার স্লো ছিল, এই যা। ওই সকালে আপনার জাপানি ভাষার দখল এক বিন্দুও কমেনি। বদলেছে শুধু একটা তারিখ।

JLPT-র জন্য যে তিন-চার মাস বসে থাকতেন, সেটা এখন আপনার পকেটে। এর মধ্যে অন্য একটা স্বীকৃত পরীক্ষা দিয়ে ফেলতে পারেন। আবার চাইলে সময়টা কাজে লাগিয়ে পরের বার এক লেভেল উপরে বসতে পারেন। যেটাই করুন, আগের চেয়ে ভালো জায়গায় থাকবেন।

শেষ কথাটা একটু ব্যক্তিগত। এখানে এসে দেখেছি, কাগজ আর বাস্তবতা সবসময় মেলে না। সার্টিফিকেট দরজাটা খুলে দেয়, এটুকুই। তারপর কনবিনির কাউন্টারে দাঁড়িয়ে কাস্টমারের প্রশ্ন বুঝতে পারা, ক্লাসে শিক্ষকের কথা ধরতে পারা, বাড়িওয়ালার সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়া — এগুলো সার্টিফিকেট করে দেয় না। ভাষাটা করে দেয়।

তাই পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার চেয়ে ভাষাটা নিয়ে সময় দিন। পরীক্ষা তো এখন প্রতি মাসেই আছে।

কোথাও আটকে গেলে বাসাজকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা রিক্রুটিং এজেন্সি নই, কারও কাছ থেকে কমিশন নিই না। শুধু চাই, দেশ থেকে যাঁরা আসছেন তাঁরা সঠিক তথ্যটা জেনে আসুন। যোগাযোগ: bssajapan@gmail.com